দুদকের তালিকায় তিন ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমডিও

দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জয়নুল হক শিকদার, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলামসহ প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় রয়েছে রেল, বিদ্যুৎ, সিভিল অ্যাভিয়েশন, ব্যাংক, পাঁচ তারকা হোটেল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরাও।

তাদের সবার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এরই মধ্যে গোপনে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেশকিছু নথিপত্রও সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত ব্যাংকের এই তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ৮০ জনের তালিকায় উল্লেখযোগ্য আরও রয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ফাতেমা তুজ জোহরা, রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল বেপজার সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাবিবুর রহমান খান,

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জয়নুল হক শিকদার, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন, সিভিল অ্যাভিয়েশন অথিরিটির সাবেক চেয়ারম্যান নাঈম হাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব আ শ ম ইমদাদুদ দস্তগীর, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক আরিফ মোতাহার, লা মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আমি আহম্মেদ ভূঁইয়া, পারটেক্স গ্রুপের মালিক এমএ হাশেম। তালিকায় আরও রয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের নাম। রয়েছে সদ্য অবসরে যাওয়া রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহানের নামও।

এদের মধ্যে এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট তৈরি করে কাজ করছেন তিনি। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে তাদের দাবি-চাহিদামতো অতিরিক্ত দামে বই ছাপতে ও সরবরাহ নিতে বাধ্য হতে হয় সরকারকে। বই ছাপাতে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ও টেন্ডারে শর্ত লঙ্ঘনকারীদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব আ শ ম ইমদাদুদ দস্তগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন।

একই অভিযোগ রয়েছে রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে। জালিয়াতির মাধ্যমে জনবল নিয়োগ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০ শত কোচ কেনার সময় একটি লোকাল এজেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ নিয়ে তা লন্ডনে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে যাচাই করে পরে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদকের মানি লন্ডারিং ইউনিট।

এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে বেশকিছু গোয়েন্দা তথ্যও এসেছে দুদকে। সদ্য অবসরে যাওয়া রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহানের বিরুদ্ধেও ক্যাটারিং বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। এ ছাড়া রেলের সাবেক-বর্তমান বিশ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে দুদকে।

তবে এ ব্যাপারে এখনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দুদক কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থপাচার, অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ জালিয়াতিসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুসন্ধান কার্যক্রম এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিল তাও সচলের উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে দুদককে অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, অপরাধী সে যে পদাধিকারেরই হোক না কেন তাকে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় নিয়ে আসা না পর্যন্ত সুশাসন নিশ্চিত সম্ভব নয়। যদি দুদকের কাছে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই তাদেরই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এখানে কোন পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।