প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্সীর চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

শেয়ারের টাকা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে ঢাকা রিজেন্সী হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন আহমেদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত গত ২ নভেম্বর এ পরোয়ানা জারি করেন। বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতের বেন্স সহকারী আশিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়ে আসায় মামলার বাদী মিনাজ আহমেদ গত ২ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা রিজেন্সী হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির হোসেন, পরিচালক আরিফ মোতাহার, নাজমা আরিফ মোতাহার, জেবুন্নেসা, ফাহিম আরিফ মোতাহার ও রোকেয়া খাতুন।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, মামলাটির সমন জারি হয়ে এসেছে। বাদীপক্ষ একটি আবেদন দাখিল করে বলেন যে, আসামিরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক এবং বিদেশে বিনিয়োগকারী আসামিরা যেকোনো সময় বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। যদি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না করা তাহলে বাদীসহ শত শত লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আসামিরা বাদীসহ একাধিক লোকের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। এ অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না করলে মামলার বিচার কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, গত ৩০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। তাই আদালতে বাদীর আবেদন করা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা রিজেন্সী হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড ২০০৫ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও ব্রোসিয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত বিদেশিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার হোল্ডার হিসেবে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করে। আসামিদের প্রস্তাব ছিল যে, শেয়ার বাবদ ২৫ হাজার পাউন্ড স্টারলিং (২৯ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করলে, বিনিয়োগকারীকে কোম্পানির পরিচালকপদসহ আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। মামলার বাদী মিনাজ আহমেদ ওই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে ২০০৬ সালের ৩ মার্চ পরিচালক পদ পাওয়ার আশায় এ টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার হোল্ডার চুক্তিবদ্ধ করে।

২০০৭ সালে আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে বাদী বরাবর পরিচালক হিসেবে কোম্পানির পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদান করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে মামলার বাদী বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে আসামিদের নিকট কোম্পানির কাগজপত্র ও বিনিয়োগকৃত শেয়ারের সনদ দেখতে চাইলে আসামি মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ ও আরিফ মোতাহার গড়িমসি শুরু করে। কেবল ২৯০টি শেয়ার (যার মূল্য ২৯ হাজার টাকা) প্রদর্শন করলে বাদী আশ্চর্যান্বিত হন এবং আসামিদের প্রতারণা বুঝতে পারেন।

এরপর মামলার বাদী খোঁজ-খবর নিয়ে জানেন যে, আসামিরা সব বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছে এবং বাদীর ন্যায় কাউকে অঙ্গীকার অনুযায়ী কোম্পানির পরিচালক পদ প্রদান করেননি। অংশীদারদের সমন্বয় পরিচালনা বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়ে একান্ত পারিবারিক বোর্ড গঠন করেন। কোম্পানি পরিচালনার সুদীর্ঘ সময়ে কখনও কোনো লভ্যাংশ প্রদান করেনি। আসামিরা নামমাত্র শেয়ার প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়নি, লিমিটেড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী এজিএম না করেই বাদীসহ অন্যান্য শেয়ার হোল্ডারদের উপস্থিত দেখিয়ে সাক্ষ্য জাল করে এজিএম দেখিয়ে অবৈধভাবে কোম্পানি চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী বিভিন্ন সময় প্রশ্ন করলে আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে হয়রানিমূলক অভিযোগে বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারীকে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। চলতি বছরের ২১ নভেম্বর বাদী তাদের অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে এবং জীবননাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।