ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন

দেশ রিপোর্ট, ৫ জানুয়ারি: ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডে ৫জন নতুন ডাইরেক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ২ জন শেয়ারহোলডার। ৫ জনের মধ্যে চেয়ারম্যান (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) নিযুক্ত করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে। অন্যান্য ডাইরেক্টরবৃন্দ হচ্ছেন বাংলাদেশ সুপ্রিয় কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মারগুব কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্স-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডক্টর সাইফুদ্দিন খান। এই দুজনও ইন্ডিপেন্ডেন্ট। অন্য দুজন হলেন ঢাকা রিজেন্সির শেয়ার হোলডার শহিদুর রহমান ও মিনাজ আহমেদ।

গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকার তাঁদেরকে নিয়োগ করেন। ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড এর বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের দায়েরকৃত পাঁচটি মামলা একীভূত করে আদালত এই মধ্যবর্তী আদেশ জারি করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান ঢাকা রিজেন্সী হোটেল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এজিএম ও পূর্বোক্ত অডিট রিপোর্ট ও কোর্ট অ্যাপোয়েন্টেড অডিটরের রিপোর্ট যাচাই বাছাই করবেন। আদালত অডিট সম্পন্ন করার জন্য মওলা মোহাম্মদ এন্ড কোম্পানিকে অডিটর হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। উক্ত অডিটর কোম্পানী প্রাথমদিকে কিভাবে বিনিয়োগ হয়েছে, তাতে কোনো অস্পষ্টতা আছে কিনা- সেটা তদন্ত করে দেখবে ।

এ ছাড়াও পূর্ববর্তী বোর্ডের ডিরেক্টরদের কোনো অনিয়ম ছিল কিনা তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। উক্ত অডিটর কোম্পানিকে ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ সালের অডিটের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আদালত আগামী ৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) একটি বিশ্বস্ত সুত্র সাপ্তাহিক দেশকে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের বিনিয়োগে গড়েওঠা ঢাকা রিজেন্সি হোটেল নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলায় প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হোটেল পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে নজর রাখছেন। তিনি তাঁর উপদেষ্টা এইচটি ইমামকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন। ৩১ জানুয়ারি রোববার এইচটি ইমামের অংশগ্রহণে ঢাকা রিজেন্সীর শেয়ার হোলডারদের নিয়ে একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪৫ জন শেয়ারহোলডার অংশগ্রহণ করেন। জনাব এইচটি ইমাম জুম মিটিংয়ে জানিয়েছেন, ঢাকা রিজেন্সিকে একটি স্বচ্ছ অবস্থায় নিয়ে আসতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

এদিকে ওই সুত্রই জানিয়েছে, হোটেলের সদ্যসাবেক চেয়ারম্যান মোসলেহ আহমদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া হোটেলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ মোতাহার ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কবির রেজা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।