লন্ডনে ঢাকা রিজেন্সি বিনিয়োগকারীদের সংবাদ সম্মেলন

যুক্তরাজ্য প্রাবাসীদের বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এন্ড রিসোর্টের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ এবং জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
হোটেল রিজেন্সিতে নিজের প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় লন্ডন প্রবাসী এক বিনিয়োগকারী গুরুতরভাবে আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে তারা এমন দাবি করলেন। হোটেলের চেয়ারম্যান কবির রেজা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। কবির রেজা কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীরা এসব কথা বলেন।১৯জন বিনিয়োগকারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনাম উল হক চৌধুরী। হামলায় আহত বিনিয়োগকারী কাজী কয়সরের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান তাঁর ভাই কাজী ফয়সল আহমদ।গত ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মামলায় অভিযুক্ত আসামী কবির রেজা দীর্ঘদিন পর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে গিয়ে গত ২৭ এপ্রিল সন্ত্রাসীদের নিয়ে হোটেলে হামলা চালায়। এ সময় কবির রেজার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা লন্ডন প্রবাসী বিনিয়োগকারী কাজী কয়সর আহমদকে পিটিয়ে আহত করার পাশাপাশি তাঁর ওপর নির্মম শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালায়। তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থ এবং দুটি স্মার্টফোট কেড়ে নেয়া হয়। জোরপূর্বক তার ব্যাংক কার্ড থেকে হোটেলের কার্ড রিডারের মাধ্যমে ৯৪ হাজার টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।তারা জানান, কবির রেজার হোটেল আঙ্গিনায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদালতের ১৪৫ ধারা জারি থাকলেও আদলতের নির্দেশ অমান্য করে তিনি সন্ত্রাসী নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করেন। ইতোপুর্বে কবির রেজা আরো একবার সন্ত্রাসীদের নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। যার ফলে কবির রেজা দ্বিতীয় দফায় সন্ত্রাসী হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। এসব বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কবির রেজা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মূলত বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাক্সগুলি প্রদর্শন করেছেন। যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষনের ক্ষেত্রে অশনি সংকেত।আহত বিনিয়োগকারীর ভাই ফয়সল আহমদ তাঁর ভাইয়ের ইমেইলে পাঠানো বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, কাজী কয়সরকে কয়েকজন সন্ত্রাসী জোরপূর্বক হোটেল থেকে নামিয়ে হোটেলের পিছনে নিয়ে যায়। সেখানে কবির রেজা কালো মার্সিডিজ গাড়ি থেকে নেমে কয়সরের উপর আক্রমণ শুরু করে। কয়সরকে ধরে রাখে সন্ত্রাসীরা। আর কবির রেজা তাঁর পেটে উপর্যোপরি কিল ঘুশি মারতে থাকেন। কয়সর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কবির রেজা তাঁর বুকে পিঠে লাথি মারতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে কবির রেজা সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে তা কয়সরের দিকে তাক করে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর তাঁকে হোটেলের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী সেখানে শারীরিক এবং মানসিকভাবে তাঁকে নির্যাতন করেন। সারা রাত তাঁকে রুমে বন্ধি করে রাখা হলেও কোনো খাবার দেয়া হয়নি। পরদিন সকালে কবির রেজা একটি ওয়ানওয়ে টিকেট ধরিয়ে দিয়ে কয়সরকে হুমকি দিয়ে বলেন, সে যাতে আর কখনো বাংলাদেশে ফেরার কথা না ভাবে। ইমেইল বার্তায় কয়সর বলেন, তিনি ভাবেননি যে তিনি বেঁচে থাকতে পারবেন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লন্ডনে ফিরে কয়সর সরাসরি ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিতসা নেন। তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জখম এবং বুকের একটি হাঁড় ভেঙ্গে গেছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়।এসব বিনিয়োগকারী বলেন, কবির রেজা মিথ্যা মামলা দায়ের করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৫ বিনিয়োগকারীকে গ্রেফতার করিয়েছে। ঢাকার খিলক্ষেত থানার অধীনে হোটেল রিজেন্সি অবস্থিত হলেও পলটন থানার পুলিশ এসে এসব প্রবাসীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং স¤পূর্ণ অন্যায়ভাবে এসব বিনিয়োগকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।তারা জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৩৩ জন বিনিয়োগকারী সাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি লন্ডনস্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পাঠিয়েছেন। স্মারকলিপিতে তারা রিজেন্সি হোটেলে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরাসরি তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে নিজেদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করে নিতে তারা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। ২০০৫/২০০৬ সালে শতাধিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রায় ৫০ কোটি টাকা হোটেল রিজেন্সিতে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু হোটেলের তিন উদ্যোক্তা- কবির রেজা, মুসলেহ আহমদ এবং আরিফ মোতাহার বিনিয়োগকারীদের সাথে শুরু থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজেরা কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রকল্পের ৫২ শতাংশ মালিক বনে যান। সেইসাথে বিনিয়োগকারীদের বাদ দিয়ে সকলের অজ্ঞাতসারে তারা তাদের মা (আরিফ মোতাহারের মা) এবং স্ত্রীদেরকে পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সোচ্চার হয়ে উঠলে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা দেশে-বিদেশে হয়রানি ও হুমকি-ধামকির মুখে পড়েন।এসবের ধারাবাহিকতায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ফেব্র“য়ারি মাসে হোটেলের ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেহ আহমেদ এবং এমডি আরিফ মোতাহারকে পুলিশ গ্রেফতার করে। চেয়্যারম্যান কবির রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তিনি এতদিন লন্ডনে পালিয়ে থাকার কারণে গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হন। ঐ পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব নেন।হোটেল রিজেন্সির বিনিয়োগকারীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তারা তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। তাঁরা আবেগ আপ্ল“ত হয়ে বলেন, মাতৃভুমির প্রতি প্রচন্ড মায়া থেকে বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তারা প্রতারিত হয়েছেন। হোটেল রিজেন্সির তিন উদ্যোক্তা শুধু তাদের বিনিয়োগ আত“সাত করেই ক্ষান্ত হয়নি; এখন তাদের জীবন কেড়ে নেয়ার হুমকি দিচ্চেছন। তাঁরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা চান। বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা চান। তাঁরা আশা করেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগ অব্যহত রাখার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিজেন্সির বিনিয়োকারীদের কল্যাণে এগিয়ে আসবেন। বাংলাদেশে আইনের শাসন রয়েছে এমনটি তারা দেখতে চান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাদাত হোসাইন মনির, মইনুল হোসাইন, সামসু মিয়া, আমিনা বেগম, আবদুল খালিক, মমিন আলী, বাবুল আক্তার, গয়েস মিয়া, শাদাত রেজাউল, আনহার মিয়া, লুতফুর রহমান, আবদুল কাইয়ুম মানিক, জুবায়ের লস্কর, মিনহাজ আহমেদ, গফফার মিয়া, কামাল উদ্দিন ও ফারুক উদ্দিন প্রমুখ।